বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগলের আয়ের প্রধান উৎস বিজ্ঞাপন। নিজ সাইটের পাশাপাশি অন্যান্য অ্যাফিলিয়েট সাইটে বিজ্ঞাপন প্রকাশের পদ্ধতি নিয়ে ২০০৩ সালে চালু হয় ‘গুগল অ্যাডসেন্স’। এর মাধ্যমে যেকোনো ওয়েবসাইটে গুগলের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় এবং এ থেকে আয়ও করা যায়। এর ফলে গুগল পরিচালিত এ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনটি থেকে ব্যবহারকারী তাঁর ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করেও আয় করতে পারেন। যেকোনো ওয়েবসাইটের স্বত্বাধিকারী কিছু শর্তসাপেক্ষে তাঁর ওয়েবসাইটে গুগল নির্ধারিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারেন।
প্রতিদিনের বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে গেলে অনেকেই ওয়েবসাইটের ওপরে, ডানে, বামে কিংবা নিচে ads by Google নামে যা দেখতে পান সেটিই মূলত গুগল অ্যাডসেন্স। যে ওয়েবসাইটে এ বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়, সে ওয়েবসাইটে থাকা লিংকে ক্লিক করলে ওয়েবসাইটের স্বত্বাধিকারীর গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্টে আয়কৃত অর্থ জমা হয়। শুধু ক্লিকই নয়, ওয়েবসাইটে অনেক বেশি ভিজিটর হলেও আয় করা যায়। মূলত সারা বিশ্বে ব্লগিং করে গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে আয় করেন এমন অনেকেই আছেন। এ তালিকায় বাংলাদেশেরও অনেক ব্লগার আছেন। তবে শুধু ব্লগই নয়, অনেক ধরনের ওয়েবসাইটেই গুগল অ্যাডসেন্স ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট (যেমন: বিবিসি, টেলিগ্রাফ, টাইমস অব ইন্ডিয়া), ই-কমার্স সাইট (যেমন: বিক্রয় ডটকম, ওএলএক্স ডট কম ডট বিডি), জবসসাইট, বিজনেস আইডিয়া (যেমন: Small Business Ideas) ইত্যাদি। গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে (www.google.com/adsense) ঠিকানায়।
অ্যাডসেন্স যেভাবে কাজ করে
গুগল অ্যাডসেন্সের বিষয়ে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট একটি জরুরি বিষয়। ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে গুগল। অর্থাত্ ওয়েবসাইটের কনটেন্টের সঙ্গে মিল রেখেই সেসব বিষয়ে গুগল অ্যাডসেন্সে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়। তাই স্বত্বাধিকারী কী বিষয়ের ওপর নিজের ওয়েবসাইটে ঠিক কী ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে, সেটি নিজে থেকে ঠিক করার উপায় নেই। এ কাজটি গুগলই করে থাকে, গুগলের এ অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে বিষয় অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেয়ার ফলে নানা বিষয়ের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হতে পারে। অ্যাডসেন্সের বিজ্ঞাপন স্বত্বাধিকারীর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে।
একটি শুধু লিংক বিজ্ঞাপন, অন্যটি ছবি বিজ্ঞাপন। ছবি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও বিষয় অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়। অনেক সময় এর ফলে বিভিন্ন ধরনের ছবিও ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীরা দেখতে পান। এ ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যবহারকারী গুগল কিংবা ইন্টারনেটে কী ধরনের বিষয় বেশি সার্চ করেন কিংবা খোঁজেন, তার ওপর। অর্থাত্ ব্যবহারকারীর সার্চের বিষয়কে গুগল ইন্টেলিজেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনে নিয়ে সে বিষয় অনুযায়ী ছবি কিংবা লিংক প্রদর্শন করে থাকে। তবে একই কম্পিউটার একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে যেকোনো একজন ব্যবহারকারীও যে বিষয়টি সার্চ করেন কিংবা তথ্য খোঁজেন তাঁর সে খোঁজা থেকেও গুগল সে অনুযায়ী ছবি প্রদর্শন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের স্বত্বাধিকারীর কোনো দায় নেই।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গুগল ওয়েবসাইটের কনটেন্ট কিংবা তথ্য খোঁজার বিষয় থেকেই ছবি কিংবা লিংক প্রদর্শন করে। অ্যাডসেন্স নেটওয়ার্কে গুগল ‘ট্র্যাকিং কুকির’ মাধ্যমে ব্যবহারকারী কোন কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন তথা ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং হিস্টোরি অ্যানালাইসিস করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখিয়ে থাকে।
গুগল অ্যাডসেন্স থেকে কিভাবে আয় হয়ে থাকে
গুগল অ্যাডসেন্স হচ্ছে গুগল পরিচালিত একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। এটি মূলত একটি লাভ-অংশিদারী প্রকল্প যার মাধ্যমে গুগল ও তার ব্যবহারকারী তাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন প্রচার করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ মালিক কিছু শর্তসাপেক্ষে তার সাইটে গুগল নির্ধারিত বিজ্ঞাপণ দেখানর বা স্থাপনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আজকের অনলাইন বিশ্বে এই বিষয়টি ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে। বিজ্ঞাপণদাতাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৫০ থেকে ৬০ ভাগ টাকাই ওয়েবসাইটের মালিকদের মাঝে ভাগাভাগি করে নেয়। আর গুগল অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে যেকেউ অর্থ আয় করতে পারে। প্রচুর বাংলাদেশী ব্লগার এবং ওয়েবসাইটের মালিক গুগল অ্যডসেন্সের বিজ্ঞাপণ প্রদর্শনের মাধ্যমে বর্তমানে অর্থ আয় করছেন।
গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আপনি আয় করতে চাইলে আপনার একটি নিজের ওয়েবসাইট বা ব্লগ থাকা দরকার। এই সাইটগুলো ফ্রি হলেও চলবে ।
গুগল অ্যাডসেন্সে একাউন্ট কি ভাবে করতে হয়
গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট তৈ্রী করতে উপায় নিন্মে ধারাবাহিক বিবরণ দেওয়া হল। গুগল অ্যাডসেন্স একাউন্ট এর জন্য প্রথমেই আপনার একটি জিমেইল একাউন্ট থাকতে হবে।
আপনার জিমেইলে কোন একাউন্ট না থাকলে জিমেইল একাউন্ট করে নিন। এখন লগ অন করুন ।
http://www.google.com/adsense এ গিয়ে sing up বাটনে ক্লিক করুন ।
তার পর একটি ফরম আসবে । ফরম এ আপনার ওয়েব সাইট এর নাম, কোন ভাষায় আপনার ওয়েব সাইট, আপনার Account type, আপনার Country, আপনার নাম [আপনার ব্যাংকের একাউন্ট নাম], আপনার Street Address, City/Town, ইত্যাদি। ফর্মটি ঠিকভাবে পুরন করে সাবমিট ইনফর্মেশন বাটনে ক্লিক করুন।
আপাতত আপনার কাজ শেষ। এখন গুগলের একজন ইঞ্জিনিয়ার আপনার রিকোয়েস্ট ভ্যারিফাই করবে, আর যদি সব কিছু ঠিক থাকে তবে আপনার একাউন্ট এক্টিভ হবে। আপনার সাইটে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনিও আয় করতে পারবেন।
Google Adsense অনলাইনে আয়ের অন্যতম উপায়, কি পরিমান উপার্জন সম্ভব?
Google Adsense বিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন Google এর একটি Advertising program, এর মাধ্যমে উপার্জনের জন্য একটি ওয়েব সাইট থাকতে হবে। ফ্রি ওয়েব সাইটের মাধ্যমেও Google Adsense ব্যবহার করে উপার্জন করা সম্ভব।
Google Adsense এর মাধ্যমে যে কোন ধরনের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে উপার্জন সম্ভব। শর্ত হচ্ছে, সাইটকে জনপ্রিয় করতে হবে। সাইটে প্রচুর ভিজিটর ঢুকতে হবে, ভাল contents থাকতে হবে। ভিজিটর একবার সাইটে প্রবেশ করে পুনরায় প্রবেশ করার আগ্রহ থাকে এ ধরনের contents প্রতিনিয়ত আপডেট রাখতে হবে। সাইটে ভিজিটর প্রবেশ করানো এবং তাদেরকে ধরে রাখতে পারলে ভিজিটরদের একটি অংশ স্বাভাবিকভাবেই Google এর বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে। মনে রাখতে হবে, যত বেশি ভিজিটর আপনার সাইটে থাকবে তত আপনার উপার্জনের পরিমান বৃদ্ধি পাবে। প্রতিদিন গড়ে ১০০০ ভিজিটর সাইটে প্রবেশ করলে গড়ে ১০% ভিজিটর Google প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে। এতে গড়ে প্রতিদিন ১০ ডলার উপার্জন হবে। অর্থাৎ মাসে ৩০০ ডলার বা ২০০০০ টাকা উপার্জন করা সম্ভব শুধুমাত্র একটি মানসন্মত ওয়েব সাইটের মাধ্যমে। একটি সাইট হতে এ ধরনের উপার্জন শুরু হয়ে গেলে ভিন্ন বিষয়ের উপর আরো সাইট আপনি তৈরি করতে পারবেন। অনলাইন উপার্জনএর এক বিশাল দ্বার উন্মোচিত হবে আপনার জন্য। প্রয়োজন শুধু পরিশ্রম করার মানসিকতা। ভাবতে পারেন, ক্লিক করলেই যেহেতু ডলার তাহলে চিন্তা কি, সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে শুধু ক্লিক আর ক্লিক.........! Google কি এতই বোকা! বিজ্ঞাপনদাতারা কি এতই বোকা! ক্লিক করলেই টাকা দিবে! না, Fake Click করলে Google তার একাউন্ট বন্ধ করে দিবে। Original ক্লিক করলেই শুধু ডলার জমবে। তাহলে Original ক্লিক কোনটি, যার মাধ্যমে ডলার পাওয়া যাবে? সে কথাই আসছি, যেহেতু সাইটের বিষয়বস্তুর সাথে মিল রেখে Google বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে, সেহেতু ভিজিটর যদি সাইটের contents দেখার পাশাপাশি Google Ad এ ক্লিক করে উক্ত বিজ্ঞাপনদাতার সাইটে স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করে (এক্ষেত্রে ভিজিটর কিন্তু fake ক্লিক করেনি, বড়ং তার নিজস্ব আগ্রহে উক্ত বিজ্ঞাপন দাতার সাইটে প্রবেশ করেছে) তবেই হবে Original ক্লিক। এ ধরনের স্বাভাবিক ক্লিক করলেই আপনার উপার্জন হবে। Google তার Adsense প্রোগ্রামের জন্য এমন টেকনোলজি ব্যবহার করেছে যে কেও fake ক্লিক করলে তা ধরে ফেলতে সক্ষম। অতএব, এ ধরনের অসাধু চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ফেলতে হবে। মনে রাখতে হবে, Google Adsense একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা। এর পুঁজি হচ্ছে, আপনার ব্লগিং পরিকল্পনা ও সঠিকভাবে তার ব্যবহার। নগদ মূলধন বলতে শুধুমাত্র একটি পিসি আর ডোমেইন/হোস্টিং এর জন্য মাত্র ২/৩ হাজার টাকা। সঠিকভাবে ব্লগিং করতে পারলে, পর্যাপ্ত ভিজিটর সাইটে প্রবেশ করাতে পারলে মাসে হাজার ডলার উপার্জন করা সম্ভব-এটা কল্পনা নয়, বাস্তব।
পরিশ্রম করে একটা ভালমানের ব্লগ সাইট তৈরি করতে পারলে আর ভিজিটর বাড়ানোর সব কৌশল প্রয়োগ করতে পারলে আপনাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। আপনি ঘুমিয়ে থাকবেন আর আপনার একাউন্টে ডলার জমতে থাকবে। সত্যি অভাবনীয়!
যারা Google Adsense ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদী উপার্জন করতে চান তাদের জন্য নিচে কতিপয় গাইডলাইন প্রদত্ত হল:
- যে ধরনের ব্লগিং সাইট করতে চান, তা ভেবে চিন্তে নির্বাচন করুন। অর্থাৎ যেসব সাইটে ভিজিটর বেশি প্রবেশ করে সে ধরনের সাইট তৈরি করুন।
- সাধারণত শিক্ষামূলক (কম্পিউটারের বিভিন্ন বিষয়সহ অন্যান্য শিক্ষা), সাধারণ জ্ঞান, ব্যবসা, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত, ফিটনেস টিপস্, ইত্যাদি বিষয়ের সাইটে ভিজিটর বেশি হয়ে থাকে। এ ধরনের ভালমানের সাইটকে ফলো করে আপনিও অনুরুপব্লগিং সাইট তৈরি করতে পারেন।
- প্রথমেই টাকা উপার্জনের চিন্তা মাথায় না এনে যথেষ্ট সময় নিয়ে সাইটকে সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করুন।
- কখনোই কোন সাইটের contents কপি করে আপনার সাইটে পোস্ট করবেন না। অবশ্য ভাল কোন ব্লগিং সাইটকে অনুকরণ করে নুতন আর্টিক্যাল, টিউটোরিয়াল, টিপস, বিজনেস টিপস ইত্যাদি পোস্ট করতে পারেন।
- সাইট পরিপূর্ণভাবে তৈরি হলে ভিজিটর বাড়ানোর জন্য মনোযোগী হোন। এক্ষেত্রে SEO এর প্রাথমিক বিষয়গুলো প্রয়োগ করুন। (ব্যাকলিংক তৈরি, ফোরামে পোস্ট, বুকমার্কিং ইত্যাদি)
- সবশেষে Google Adsense এর জন্য Apply করুন।
কৃতজ্ঞতায়
- আলহেরা মাল্টিমিডিয়া
No comments:
Post a Comment